কথা দিয়েছিলেন, কথাও রাখলেন মানিক মিয়া
জৈন্তাপুর প্রতিনিধি:
প্রতিশ্রুতি শুধু কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে বাস্তবায়ন—এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ৬নং চিকনাগুল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী মো. মানিক মিয়া। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা পশ্চিম ঠাকুরের মাটি গ্রামের একটি সড়ক নিজ উদ্যোগে সংস্কার করে তিনি স্থানীয়দের দেওয়া কথা রেখেছেন।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে পশ্চিম ঠাকুরের মাটি গ্রামের ডাঃ আবুল হাসনাত চৌধুরীর বাড়ির সম্মুখ থেকে নয়ামাটি সফর আলীর দোকান পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে সংস্কারকাজ করেন মানিক মিয়া। ইট, কংক্রিট ও রাবিশ দিয়ে সড়কের বড় বড় গর্তগুলো ভরাট করে তিনি সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করে তোলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়কটির কয়েকটি অংশে দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে রাস্তার বিভিন্ন অংশ ভেঙে যায়। সৃষ্টি হয় বড় বড় গর্ত। ফলে প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, বয়স্ক মানুষ ও ছোট যানবাহনের চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য ছোট যানবাহন চলাচলে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হয়।
সড়কের এমন দুরবস্থা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়। এলাকার যুবসমাজও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সড়কটির ছবি ও দুরবস্থার বিষয়টি তুলে ধরে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানায়।
বিষয়টি নজরে আসার পর গত ২৪ আগস্ট সড়কটি সরেজমিনে পরিদর্শনে যান ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী মো. মানিক মিয়া। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তিনি সড়কের সমস্যাগুলো দেখেন এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
প্রতিশ্রুতি দেওয়ার মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই সেই কথা বাস্তবে রূপ দেন তিনি। রোববার সকালে নিজ উদ্যোগে প্রয়োজনীয় ইট, কংক্রিট ও রাবিশের ব্যবস্থা করে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সংস্কারকাজ শুরু করেন। এতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সড়কটির বিভিন্ন স্থানে গর্তের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্ভোগ ছিল। বিশেষ করে রাতে চলাচল ও বয়স্ক ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে সমস্যা হতো। মানিক মিয়া বিষয়টি দেখার পর দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা অনেকদিন ধরে এই রাস্তার সমস্যায় ভুগছি। মানিক মিয়া রাস্তা দেখে কথা দিয়েছিলেন, তিনি চেষ্টা করবেন। আজ এসে নিজের উদ্যোগে গর্তগুলো ভরাট করে দিয়েছেন। এতে আমাদের চলাচলের অনেক সুবিধা হয়েছে।”
আরেক বাসিন্দা বলেন, “আমরা চাই শুধু নির্বাচনের সময় নয়, সবসময় জনপ্রতিনিধিরা মানুষের পাশে থাকুন। মানিক মিয়া মানুষের সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে যেভাবে এগিয়ে এসেছেন, তা এলাকার মানুষের নজর কেড়েছে।”
স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, নির্বাচনে জয়ী হওয়ার আগেই মানুষের দৈনন্দিন দুর্ভোগ লাঘবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এগিয়ে আসা ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এলাকার অন্যান্য সমস্যা সমাধানে জনপ্রতিনিধি ও প্রার্থীরা একইভাবে মানুষের পাশে থাকবেন।
এদিকে, ৮নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সম্প্রতি সক্রিয় রয়েছেন মেম্বার পদপ্রার্থী মো. মানিক মিয়া। বিভিন্ন মসজিদে এলাকাবাসীর সঙ্গে পরামর্শ সভা, দোয়া ও সহযোগিতা চাওয়ার পাশাপাশি সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করছেন তিনি।
নিজ উদ্যোগে সড়ক সংস্কারের বিষয়ে মো. মানিক মিয়া বলেন, “আমি গত নির্বাচনে সামান্য ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হতে পারিনি। তবে নির্বাচনে জয়-পরাজয় যাই হোক, আমি সবসময় ওয়ার্ডবাসীর পাশে ছিলাম এবং আছি। এলাকার মানুষের কল্যাণে আমার সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে যেতে চাই। ইনশাআল্লাহ, আগামীতে আমাকে নির্বাচিত করে ওয়ার্ডের উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে ওয়ার্ডবাসী সহযোগিতা করবেন। ওয়ার্ডবাসীর পাশে ছিলাম, পাশে আছি এবং আমৃত্যু পাশে থাকতে চাই।”
সড়ক সংস্কারকাজের সময় উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবী আব্দুল হান্নান, ফরিদ আহমেদ, বাশির আলী, সোহেল রানা, নুরুল ইসলাম মঞ্জুর, কামাল আহমেদ, রাহিম আহমদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা—অস্থায়ী সংস্কারের পাশাপাশি ভবিষ্যতে সড়কটির স্থায়ী সংস্কার ও কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি মিলবে।