কোম্পানীগঞ্জের জলে বাইচ, ডাঙ্গায় উচ্ছ্বাস
বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে লম্বা লম্বা সুসজ্জিত নৌকায় মাঝি-মাল্লার বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আর হাজার হাজার নারী পুরুষের হৈ হুল্লোড় মাতিয়ে তোলে পিয়াইন নদীর দুই তীর। গ্রামবাংলার প্রাচীন ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শিমুলতলা নোয়াগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল মনোমুগ্ধকর নৌকাবাইচ। দীর্ঘদিন পর হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরে পেয়ে আনন্দ উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে দর্শনার্থীরা।
সোমবার (১৫ জুন) বেলা ১২টায় শুরু হয় প্রতিযোগিতা।
পুটামারা পশ্চিম পাড়া, ফুড়ারপাড়, বর্ণি পূর্ব পাড়া ও বর্ণি পশ্চিম পাড়ার ৪টি নৌকা প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহন করেন। প্রথমে টানেই ডুবে যায় বর্ণি পূর্ব পাড়ার নৌকা। তাৎক্ষণিক উদ্ধার করে আবারও ফিরে আসে প্রতিযোগিতায়। এরপর অংশগ্রহনকারী নৌকার জোড়ায় জোড়ায় টান উপস্থিত দর্শনার্থীরা উপভোগ করেন। এ যেন উৎসবের আমেজ।
‘নদীর জন্য মানুষ, মানুষের জন্য নদী’ প্রতিপাদ্যে সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস) আয়োজিত প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফুড়ারপাড় ও রানার্সআপ বর্ণি পশ্চিম পাড়া।
প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া। এসময় তিনি বলেন, নৌকাবাইচ বাংলার লোকসংস্কৃতির একটি অংশ। এটি একই সঙ্গে উৎসব ও জনপ্রিয় একটি খেলা। এই ঐতিহ্যকে রক্ষায় প্রশাসন সর্বদা সহযোগিতা করবে। আগামীতেও যেন এমন নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- অক্সফাম নেদারল্যান্ডসের প্রজেক্ট ডেভেলপমেন্ট লিড ডেনিয়েল বয়কো ওরামস, পলিসি লিড (ক্লাইমেট রেজিলেস লাইভলিহুড) পেট্রনেলা জোহানা ফ্রান্সিসকা মারিয়া, অক্সফাম নেপালের প্রোগ্রাম ম্যানেজার রাজন সুবেদি, থিমেটিক এ্যাডভাইজার সন্তশ শ্রেষ্ঠা, সিনিয়র পলিসি অফিসার (ওয়াটার) ড. মো. সিবলী সাদিক, অক্সফাম ইন্টারন্যাশনাল-এশিয়ার প্রোগ্রাম ম্যানেজার এনামুল মাজিদ খান সিদ্দিকী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদার, কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি সুজন চন্দ্র কর্মকার, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা এডভোকেট কামাল হোসেন, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজী আ. মন্নান মনাফ, পূর্ব ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর আলম, উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি আবুল বাশার বাদশা প্রমুখ।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। নৌকা বাইচের আগে বেলা ১১টায় পিয়াইন নদী নির্ভর জনগোষ্ঠীকে নিয়ে ওই এলাকায় ‘নদী সংলাপ’ অনুষ্ঠিত হয়।