বৃহস্পতিবার , ১৬ এপ্রিল ২০২৬
 বৃহস্পতিবার , ১৬ এপ্রিল ২০২৬

অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় আঞ্জুমান আরার বিদায়

আইকন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
৩০ মার্চ ২০২৬, ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন
অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় আঞ্জুমান আরার বিদায়

দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবন শেষে বিদায় অনুষ্ঠানে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তোয়াকুল ইউনিয়নের পাইকরাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আঞ্জুমান আরা বেগম।




শনিবার বিকেলে পাইকরাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর আয়োজনে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় মানপত্র, সম্মাননা ক্রেস্ট, ফুলের তোড়া ও উপহার তুলে দেওয়া হয়।


১৯৮৯ সাল থেকে এই বিদ্যালয়ে দীর্ঘ ৩৬ বছরের কর্মজীবনে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীকে জীবনে উচ্চশিক্ষার পথে পরিচালিত করেছেন। চাকরি জীবন থেকে অবসর নিচ্ছেন প্রিয় শিক্ষিকা- এমন খবরে বিদ্যালয়ে ছুটে আসেন সাবেক শিক্ষার্থীরা। সৃষ্টি হয় আবেগঘন এক পরিবেশ। অনেককেই কাঁদতে দেখা যায়।


স্থানীয় ইউপি সদস্য বিলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  রতন কুমার অধিকারী।


প্রাক্তন শিক্ষার্থী নাছির উদ্দিন ও শরিফ উদ্দিনের যৌথ সঞ্চালনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা বিভাগীয় প্রধান ড. আতী উল্লাহ।


বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের প্রভাষক ফারুক আহমদ, ইউআরসি’র প্রশিক্ষক আতাউর রহমান, উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বশির শরিফ, পাইকরাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারি শিক্ষক ফারুক উদ্দিন, উপজেলা পরিষদের সাবেক সিএ মো. লুৎফুর রহমান, সাবেক সহকারী শিক্ষক নুরুল আমীন প্রমুখ।


প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন শরীফ উদ্দিন ও মানপত্র পাঠক করেন জাহানারা বেগম।


বক্তব্যে প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী বলেন, ম্যাডামের শূন্যতা অপূরণীয়। চাকরি জীবনের তিনি কখনোই সময়ের অপব্যবহার করতেন না। তার নিয়মানুবর্তিতা ও সময়ানুবর্তিতা থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি।


বিদায়ী শিক্ষিকা আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, বিদায় অনেক কষ্টের। শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট সবাই আমাকে যে সম্মান দিয়েছেন, তাতে আমি গর্বিত ও আনন্দিত। আমি চাই আমার শিক্ষার্থীরা যেন ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করতে পারে। দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে পারে। এতেই আমি শান্তি পাব।