পরকীয়া প্রেমিকের হাতে শাশুড়ি খুন, প্রবাসীর স্ত্রী গ্রেফতার
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় বসতঘর থেকে হাত-পা, মুখ বাঁধা এবং গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী (৬৩) নামে এক নারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তার পুত্রবধূকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তামান্নার পরকীয়া প্রেমিক ও তার সহযোগীরা ফেরদৌসীকে হত্যা করে ঘটনাটি চুরি বলে চালিয়ে দিতে তামান্নাকেও বেঁধে রেখে যায়।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়েরের পর নবীগঞ্জ থানা-পুলিশ তামান্না আক্তার (২২) নামে ওই গৃহবধূকে গ্রেফতার দেখিয়েছে।
এর আগে সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে উপজেলার মধ্যসমেত গ্রামে নিজ বসতঘর থেকে ফেরদৌসীর হাত-পা ও মুখ বাঁধা এবং গলায় ওড়না প্যাঁচানো লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
একই স্থান থেকে একইভাবে বাঁধা অবস্থায় তার পুত্রবধূ তামান্নাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
নিহত ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যসমেত গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী।
পুলিশ জানায়, তামান্নার স্বামী রফিকুল ইসলাম চৌধুরী দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। বিয়ের সময় পাওয়া পাঁচ ভরি স্বর্ণালঙ্কার শাশুড়ি ফেরদৌসী চৌধুরীর কাছে রাখা ছিল।
এ নিয়ে তামান্নার সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এর মধ্যেই শিপন মিয়া নামে এক টিকটকারের সঙ্গে তামান্নার পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। নিয়মিত তাদের দেখা-সাক্ষাৎ হতো।
রোববার রাতে ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎবিহীন বাড়িতে দুই সহযোগীকে নিয়ে তামান্নার সঙ্গে দেখা করতে আসেন শিপন।
পেছনের দরজা দিয়ে প্রবেশের সময় ফেরদৌসী বাধা দিলে তাকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি চুরি হিসেবে দেখাতে তামান্নাকেও বেঁধে রাখা হয়।
মঙ্গলবার নিহতের ভাই এ ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে র্যাব অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি তামান্নাকে আটক করে থানায় সোপর্দ করে।
নবীগঞ্জ থানার ওসি মো. মোনায়েম মিয়া বলেন, তামান্না আক্তার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়েছেন। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের স্বার্থে আপাতত আর কোনো তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না।