মুহিম শাহজাহানসহ ৩৪জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের
সিলেট নগরীর কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে কাউন্টার দখলের জেরে পরিবহন শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের ঘটনায় আহত শ্রমিক দেলোয়ার হোসেন (৩৫) এর মৃত্যু হয়েছে।
গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় বৃহস্পতিবার (৭ মে) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তিনি বিয়ানীবাজার উপজেলার বাঘবাড়ী গ্রামের মো. আজির উদ্দিনের ছেলে।
বৃহস্পতিবার এর সত্যতা নিশ্চিত করে এসএমপির দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেলোয়ার হোসেন মারা যান।
এর আগে গত বুধবার (৬ মে) দক্ষিণ সুরমায় থানায় নিহতের বাবার দায়ের করা মামলার অগ্রগতি ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে স্থানান্তর করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৭ এপ্রিল সিলেট-জগন্নাথপুর রুটে পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কাউন্টার দখলকে কেন্দ্র করে পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে বিভিন্ন বাস ও টিকিট কাউন্টার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং একাধিক শ্রমিক আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে পুলিশ মোতায়েন করা হলেও পরে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এই ঘটনায় ৭ জন শ্রমিককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ইতোমধ্যে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ২ জন শ্রমিকের মৃত্যু হলো।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার মারা যাওয়া পরিবহন শ্রমিক দেলোয়ার হোসেন হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকাকালে তার বাবা মো. আজির উদ্দিন বাদী হয়ে গত বুধবার (৬ মে) সিলেট জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুহিম ও শ্রমিকনেতা শাহজাহানসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাত আরো ১০/১৫ জনকে আসামী করা হয়।
মামলার আসামীরা হলেন-গোলাপগঞ্জ থানার ঘোষগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের পুত্র শাহজাহান (৪০), দাড়িপতন গ্রামের আব্দুল মতিনের পুত্র আব্দুল মুহিম (৫৫), চন্দনবাগ গ্রামের আব্দুল বারিকের পুত্র রিয়াজুল ইসলাম রাজন (৪৫), ফুলবাড়ী গ্রামের ছরমিন আলীর পুত্র আবুল হোসেন আবুল (৫০), বিশ^নাথ থানার জানাইয়া গ্রামের মৃত মবশি^র আলীর পুত্র মোহাম্মদ সুন্দর আলী (৩৮), গোলাপগঞ্জ থানার ফুলবাড়ী গ্রামের আবুল হোসেনের পুত্র পাপ্পু (২৫) ও তার সহোদর অপু (২৪), একই থানার রনিখাইল গ্রামের মৃত রসিদ আলীর পুত্র আব্দুল মুহিদ (৫৫), বিশ^নাথ থানার মোল্লারগাও গ্রামের মৃত ময়না মিয়ার পুত্র ফজর আলী (৪৫), গোলাপগঞ্জ থানার ভাদেশ্বর শেখপাড়া গ্রামের তছলিম উদ্দিনের পুত্র সেলিম উদ্দিন (৫০), একই থানার ফুলবাড়ী গ্রামের মমিন উল্লাহর পুত্র আব্দুল হান্নান কলে (৫৫), ঘোষগাও গ্রামের আব্দুল মান্নানের পুত্র আঃ রুপ (৪৫), বানীগাজী চন্দরপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের পুত্র তুহিন ইসলাম (২২) ও তোফায়েল ইসলাম, ফুলবাড়ী পূর্বপাড়া রুপাইল গ্রামের মৃত ইসলাম আলীর পুত্র হুমায়ুন (৪৮), বিশ^নাথ থানার রামপাশা গ্রামের জহুর উদ্দিনের পুত্র হারুন মিয়া (৪০), একই থানার জানাইয়া গ্রামের মবশির আলীর পুত্র আজব আলী (৪৫) ও বিলাল আহমদ (৩৫) এবং গোলাপগঞ্জ থানার বরাইয়া উত্তরবাগ গ্রামের হাজী আব্দুস শহীদের পুত্র সাহেদ আহমদ (৪০)।
এদিকে বৃহস্পতিবার (৭ মে) শ্রমিক দেলোয়ার হোসেন মারা যাওয়ার পর মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে স্থানান্তরিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন এসএমপির দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি মো. আশরাফুজ্জামান। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি। এর আগে শ্রমিক রিপন নিহতের ঘটনায় গত মঙ্গলবার তার বাবা বাদী হয়ে সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ-মাইক্রোবাস পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মইনুল ইসলাম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজনসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।