বুধবার , ১২ আগস্ট ২০২৬
 বুধবার , ১২ আগস্ট ২০২৬

‘আকাশি সাদা’ জার্সি যেভাবে হলো আর্জেন্টিনার

আইকন
স্পোর্টস ডেস্ক:
০১ জুন ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ন
‘আকাশি সাদা’ জার্সি যেভাবে হলো আর্জেন্টিনার

আকাশের ‘আকাশি’ আর মেঘের ভেলার ‘সাদা’ রঙ—এ দুইয়ে মিলেই আর্জেন্টিনার ট্রেডমার্ক জার্সি। ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা জার্সির মাহাত্ম্য খোদ ফুটবলার থেকে শুরু করে সমর্থক—সবার কাছেই অন্য রকম এক আবেগ।  


আর্জেন্টিনার জার্সি প্রস্তুত করে থাকে জার্মানির ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস। মাঝের তিন বছর (১৯৯৯-২০০১) বাদ দিয়ে বিশ্ব বিখ্যাত এই ব্র্যান্ডের জার্সি গায়ে দিয়ে সেই ১৯৯০ বিশ্বকাপ থেকে এখন পর্যন্ত খেলে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা।


আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপেও  স্বভাবতই আর্জেন্টিনার চিরাচরিত নকশা রাখা হয়েছে তাদের জার্সিতে। যেখানে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা ডোরাকাটা নকশা। এ ছাড়া আলবিলেস্তেদের শিরোপাজয়ী ১৯৭৮, ১৯৮৬ এবং ২০২২ তিন আসরে পরিহিত জার্সির সঙ্গে এর সমন্বয় করা হয়েছে।


১৯৩০ বিশ্বকাপ থেকেই আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের গায়ে শোভা পেত এই আকাশি-সাদা জার্সি। তবে তখন জার্সির সঙ্গে শোভা পেত ঘন নীল রঙের শর্টস। ১৯৭৮ বিশ্বকাপের পর থেকে গাঢ় নীল শর্টস বাদ দিয়ে কালো শর্টস পরে খেলা শুরু করেন দেশটির ফুটবলাররা।


১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে দিয়োগো ম্যারাডোনার সেই ‘হ্যান্ড অব গড’। সেবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচে ওই আকাশি-সাদা ডোরাকাটা জার্সির পরিবর্তে গাঢ় নীল রঙের জার্সি পরে নামতে হয়েছিল। মেক্সিকো বিশ্বকাপে আর্জেন্টাইনদের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল তাপমাত্রা আর আর্দ্রতা। আকাশি-সাদা ডোরাকাটা মূল জার্সিতে খুব একটা সমস্যা নেই। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তো আর সেই জার্সিতে নামা যাবে না, তাই পরতে হবে গাঢ় নীল রঙের দ্বিতীয় জার্সি। কিন্তু তা নিয়েই বিপত্তি।


অতিরিক্ত গরমের মধ্যে সে জার্সি গায়ে চাপানোই কষ্টকর হয়ে ওঠে। পাতলা কাপড়ের নতুন জার্সি বানানোরও হাতে সময় ছিল না। তৎকালীন কোচ কার্লোস বিলার্দো সহকারীকে পাঠালেন মেক্সিকো সিটির দোকান ঘুরে যদি কোনো নীল রঙের একটু আরামদায়ক কাপড়ের জার্সি পাওয়া যায়। সহকারী কোচ রুবেন মোশেল্লা হাজির হলেন অপেক্ষাকৃত দুটি পাতলা জার্সি নিয়ে। সেখান থেকে অধিনায়ক দিয়েগো ম্যারাডোনা একটি হাতে নিয়ে বললেন, ‘এটা গায়ে জড়িয়েই আমরা ইংল্যান্ডকে হারাব।’