স্বাস্থ্য খাত : নানা দুর্নীতিতে আক্রান্ত


রুবেল আহমদ: দেশের স্বাস্থ্য খাতে চরম বিশৃঙ্খলা চলছে। এ রকম বেহাল দশা অতীতে কখনো হয়নি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য এবং বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা: রশীদ-ই মাহবুব বলেছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিফতরের মধ্যে সমন্বয়হীনতা নিয়ে আগে থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল। উভয়েই পরস্পরবিরোধী কথা বলেছিল, এখন তারা নিজেরাই স্বীকার করে নিলো, তারা ব্লেম গেম খেলছে। মন্ত্রণালয় প্রতিটি দফতর কিভাবে চলবে, সে বিষয়ে নিয়মকানুন, আইন আছে। এটিকে বলা হয় ‘রুল অব বিজনেস। কিন্তু তারা রুল অব বিজনেস মানেনি। ফলে একে অন্যকে দোষারোপ, কাদা ছোড়াছুড়ির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের কাজের সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু তারাও নিজেদের রুল অব বিজনেস মানেনি। এখান থেকে সমস্যার শুরু। এ জন্য প্রকৃত দোষী যারা তাদের খুঁজে বের করে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে হবে। চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে রোগীদের অভিযোগের শেষ নেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মধ্যে সমন্বয়হীনতাই এসব বিশৃঙ্খলার মূল কারণ। ডা: রশীদ-ই মাহবুব আরো বলেন, এত দিন অন্য সবাই তাদের সমন্বয়হীনতার কথা বলত। এখন তো তারা নিজেরাই গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলছে, তাদের মধ্যে সমন্বয় নেই। মানুষের জীবন নিয়ে রাজনীতি চলে না। গোটা বিশ্ব করোনাভাইরাসের প্রকোপে বিপর্যস্ত। প্রতিদিন ঝরে যাচ্ছে তাজা প্রাণ।

বর্তমান সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে। এগুলোর নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে রাখতে হবে। কার্যত দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেইফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিটিবলিটিস (এফডিএসআর) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা: আবুল হাসনাত মিল্টন বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতে দক্ষ নেতৃত্ব ও সুশাসনের অভাবেই দশকের পর দশক ধরে তিলে তিলে বর্তমানের এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে দুর্নীতিবাজরা সিন্ডিকেট করে কেনাকাটার নামে হরিলুট চালিয়েছে। মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের রথী-মহারথীদের যোগসাজশ না থাকলে এ ধরনের দুর্নীতি সম্ভব হতো না। শুধু ডাক্তারদের কাঁধে সব ব্যর্থতার দায় চাপিয়ে পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের চেষ্টা সফল হয় না। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রভাবশালীরাই দুর্নীতিবাজদের মন্ত্রণালয়ে কাজের সুযোগ করে দেয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কেন্দ্রিক এসব দুর্নীতির সাথে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাও জড়িত। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের মুখোমুখি অবস্থান প্রসঙ্গে ডা: আবুল হাসনাত মিল্টন বলেছেন, এটি নিজের দোষ অন্যের কাঁধে চাপিয়ে দেয়ার একটি অপচেষ্টা। স্বাস্থ্য খাতে ভালোমন্দ যা ঘটছে সব কিছুর দায় যৌথভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওপর বর্তায়।
স্বাস্থ্য খাতের পুরো ব্যবস্থাপনার রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতির অনুপ্রবেশ ঘটেছে। সাধারণ মানুষের চিকিৎসার ন্যূনতম ব্যবস্থা সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নেই। ওষুধ প্রশাসনে নকল ওষুধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ শনাক্ত করার আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। শুধু জরিমানা নয়, কঠোর বিচারব্যবস্থা প্রতারকদের বিরুদ্ধে গড়ে তুলতে হবে।

২৮ জুলাই সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, দেশে ৭০ শতাংশ হাসপাতাল ও ক্লিনিক অনুমোদনহীন, ভুয়া ক্লিনিক ল্যাবে ঝুঁকিপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা, মৃত ডাক্তারের নামে রিপোর্ট, নকল ডিগ্রিতে প্রতারণা। পত্রিকার পাতা উল্টালেই নজরে আসে স্বাস্থ্য খাতে বহুবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর। সবাই ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ব্যস্ত। আমরা জানি না এর শেষ কোথায়। কখন আমাদের দেশে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য খাতে সুদিন ফিরে আসবে। আমরা স্বাস্থ্য খাতে সুদিনের জন্য প্রহর গুনছি। লেখক: কলামিস্ট, প্রবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *