শান্তি মিশনে বাংলাদেশের অর্জন

রুবেল আহমদ: দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে সংশ্লিষ্ট রয়েছে বাংলাদেশ। ১৯৮৮ সালে সর্বপ্রথম দুটি অপারেশনে অংশগ্রহণ করে—ইরাকে (ইউনিমগ) এবং নামিবিয়ায় (আনটাগ)। উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় ইউনিকম যান্ত্রিক পদাতিক বাহিনীর অংশ হিসেবে কুয়েতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কন্টিনজেন্ট পাঠানো হয়েছিল। এর পর থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও পুলিশ ইউএনপিকেওর (ইউনাইটেড ন্যাশনস পিসকিপিং অপারেশনস) অংশ হিসেবে প্রায় ২৫টি দেশে ৩০টিরও বেশি মিশনে অংশগ্রহণ করেছে। যেসব দেশের মিশনে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করেছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে নামিবিয়া, কম্বোডিয়া, সোমালিয়া, উগান্ডা, রুয়ান্ডা, মোজাম্বিক, সাবেক যুগোস্লাভিয়া, লাইবেরিয়া, হাইতি, তাজিকিস্তান, পশ্চিম সাহারা, সিয়েরা লিওন, কসোভো, জর্জিয়া, পূর্ব তিমুর, কঙ্গো, আইভরিকোস্ট ও ইথিওপিয়া। ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে সর্বোচ্চসংখ্যক জনবল অংশগ্রহণ করেছে। তখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০ হাজার ৮৫৫ জন (সামরিক ও আইন প্রয়োগকারী) জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশনের আওতায় বিভিন্ন দেশে কর্মরত ছিলেন। শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকা প্রশংসনীয়।

এবার জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশের দুটি সাফল্য অর্জিত হয়েছে। একটি হচ্ছে এ মিশনে সর্বোচ্চসংখ্যক শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে দীর্ঘদিন দ্বিতীয় অবস্থানে থাকার পর আবারও প্রথম অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী গত ৩১ আগস্ট শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সংখ্যা ছয় হাজার ৭৩১ জনে উন্নীত হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ আবারও সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশের মর্যাদা অর্জন করেছে। দ্বিতীয় সাফল্য হচ্ছে বাংলাদেশের মেজর জেনারেল র্যাংকের একজন সেনা কর্মকর্তা দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনের ডেপুটি ফোর্স কমান্ডার নির্বাচিত হয়েছেন। আগেও বাংলাদেশের সেনা কর্মকর্তারা জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে ফোর্স কমান্ডার ও ডেপুটি ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, শান্তিরক্ষী জনবলে ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসের শেষ দিন পর্যন্ত ২৮ মাসের মধ্যে ২০ মাসই বাংলাদেশ শীর্ষে ছিল। এর আগে-পরে সর্বোচ্চসংখ্যক শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী প্রথম সারির দেশগুলোর তালিকায় ছিল বাংলাদেশ। জাতিসংঘের ‘ডিপার্টমেন্ট অব পিসকিপিং অপারেশনস’-এর ওয়েবসাইটে শান্তি রক্ষা মিশনে কোন দেশ কত সামরিক ও পুলিশ সদস্য পাঠিয়েছে, তার বছর ও মাসওয়ারি প্রতিবেদন রয়েছে। তাতে গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তথ্য রয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শান্তি রক্ষা মিশনে সবচেয়ে বেশি সামরিক ও পুলিশ সদস্য প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ছয় হাজার ৪৭৭ জন পুরুষ ও ২৫৫ জন নারী মিলিয়ে মোট ছয় হাজার ৭৩১ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইথিওপিয়া।

শান্তিরক্ষীর সংখ্যায় আবারও প্রথম হওয়া এবং ডেপুটি ফোর্স কমান্ডার হওয়া অবশ্যই ইতিবাচক সংবাদ। বাংলাদেশ নিষ্ঠার সঙ্গে জাতিসংঘের দায়িত্ব পালন করছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এ জন্য বাংলাদেশ প্রশংসিতও। আমরা আশা করি, জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশের গুরুত্ব আরো বাড়বে। নেতৃত্বের অবস্থানেও বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের ভূমিকা বাড়বে। লেখক: কলামিস্ট, প্রবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *