দক্ষিণ সুরমায় ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের বাসা-বাড়ীতে পুলিশের তল্লাশী


ডেস্ক নিউজ:: দক্ষিণ উপজেলার সিলাম ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা ও হাজীপুর গ্রামের বশির আলীর ছেলে শাওন ইসলাম ও তার ভাই ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম দিপুর নানাবাড়ি ও নিজ বাড়ি এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মো. লিমন আহমদের বাড়ি ও আত্মীয়র বাড়িতে পুলিশী তল্লাশির নামে হয়রাণীর অভিযোগ করেছে পরিবার সূত্র। মঙ্গলবার (১৮ মে) গভীর রাত ৩ টায় এ অভিযান চালানো হয়। আর তল্লাশী অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন দক্ষিণ সুরমা থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম ও মোগলাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ শামসুদ্দোহা পিপিএম। তল্লাশীর সময় বাড়িতে থাকা পরিবারের সদস্যদের পুলিশ সদস্যরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে শাওন ইসলাম অপু ও কামরুল ইসলাম দিপুর সন্ধান খোঁজেন বলে জানান তাদের মা বেনু বেগম। এ সময় অপু-দিপুকে গ্রেফতারের জন্য ঘরে ঢুকে ব্যাপক তল্লাশি করা হয়। তাদেরকে ঘরে না পেয়ে ঘরের মূল্যবান জিনিস ভাংচুর করা হয় বলে জানিয়েছেন পরিবার সূত্র।
পরিবার সূত্র আরো জানান, শাওন ইসলাম ও কামরুল ইসলামকে থানায় হাজির না করালে পরিবারের লোকদেরকে ধরে নিয়ে যাওয়া হবে বলে হুমকী দেয় পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকেই পরিবারের সকল সদস্য চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন বলে জানান তারা। তারা আরো জানান, এর পূর্বে আরও বেশ কয়েকবার তাদের বাড়িতে তল্লাশীর নামে ভাংচুর ও হয়রাণি করেছে পুলিশ।
সূত্রে জানা যায়, শাওন ইসলাম অপু ও তার ভাই কামরুল ইসলাম দিপু এবং লিমন আহমদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত দক্ষিণ সুরমা থানার বিস্ফোরক, পুলিশের সাথে মারামারি, সরকারী কাজে বাধাপ্রদান ও হত্যাসহ একাধিক মামলায় সাজা ও গ্রেফতারী পরোয়ানা রয়েছে। মামলাগুলোর মধ্যে দক্ষিণ সুরমা থানার ( মামলা নং-১০(৮)১৪ ইং) জামিনে গিয়া পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করেন। এ মামলার বিচার কার্য শেষে গত বছরের ২৩ জানুয়ারি রায় প্রদান করেন। রায়ে তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও আর্থিক জরিমানা আদেশ দিয়ে সাজা পরোয়ানা ইস্যু করেন। এছাড়াও মোগলাবাজার থানার (মামলা নং ২৭(০৬)১৩ইং) মামলাটি সিলেটের চীফ মেট্রোপলিট আদালত একই বছরের ২ জানুয়ারি রায় প্রদান করেন। রায়ে ৭ বৎসরের সশ্রম কারাদন্ড ও ৬ হাজার টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে আরো ৩ মাসের বিনাশ্রম দন্ডের আদেশ প্রদান করে সাজা পরোয়ানা ইস্যু করেন আদালত।
অপরদিকে শাওন ইসলাম অপু ও কামরুল ইসলাম দিপু পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচনে বাধা দেয়ার অপরাধে মোগলাবাজার থানার (মামলা নং ০৯ (০৬)১৬ইং), হত্যা ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে আইনে কোতয়ালি থানার (মামলা নং ২৬(০৬)১৭ইং) ও মোগলাবাজার থানার সিলামে এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মোগলাবাজার থানার (মামলা নং ৩৭ (০১) ১৯ইং) মামলায় আদালতের গ্রেফতারী পরোয়না রয়েছে। এ মামলাগুলোতে আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আদালত একাধিকবার গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন। এরপর থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করতে পুলিশ ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছেন। সর্বশেষ গতকাল গভীর রাতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করেন।
এ ব্যাপারে শাওন ইসলাম ও কামরুল ইসলামের পরিবার সূত্র জানান, দীর্ঘ দিন থেকে প্রবাসে রয়েছেন শাওন ও কামরুল। বর্তমানে বাড়িতে শুধু মা ছাড়া আর কেউ নেই। পুলিশের ব্যাপক তল্লাশীর কারণে আতঙ্কে আছেন।
এ ব্যাপারে কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, শাওন ইসলাম ও কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ও গ্রেফতারী পরোয়ানা রয়েছে। তাই তাদেরক গ্রেফতার করতে অভিযান চালানো হয়। তবে কাউকে কোন ধরণের হয়রাণী করা হয়নি। হয়রাণীর অভিযোগটি মিথ্যা।
এদিকে, সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় হঠাৎ ধরপাকড় শুরু করেছে পুলিশ। গত এক সপ্তাহে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর আত্মগোপনে থাকা সাজাপ্রাপ্ত ও গ্রেফতারী পরোয়ানাভুক্ত বিএনপি,যুবদল ও ছাত্রদল নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতারের জন্য সকল স্থানে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ অভিযানের ফলে সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৮ মে) গভীর রাত ও ভোরে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা যুবদলের আহবায়ক বাবর আহমদ রনি, যুগ্ম-আহ্বায়ক শাহেল আহমদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে ছাত্রদল নেতা সাহেল আমদ, রাসেল আহমদ, রনি, রাজু, রফিকসহ অর্ধশত নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সরকার বিরোধী আন্দোলন ও বিস্ফোরক আইনের দক্ষিণ সুরমা থানার একটি মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *