থেমে নেই বিচার ছাড়া হত্যাকান্ড!

রুবেল আহমদ: আওয়ামী লীগ আর বিএনপির নেতারা কোন বিষয়ে একমত হতে না পারলেও, র‍্যাব ভেঙে ফেলার পক্ষে দু দলের কিছু নেতার মধ্যেই বেশ মিল খুজে পাওয়া গেছে। আবার র্যাব রেখে দেবার পক্ষেও দু দলের বেশ কিছু নেতা একমত। তাই, র‍্যাব থাকবে না কি এর সংস্কার দরকার তা নিয়ে দু প্রধান দলেই চলছে নানা কথা। বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে র‍্যাব গড়া হলেও ক্ষমতা ছাড়ার আগে এর কয়েকজন নেতা এই ফোর্সকে ভেঙে ফেলতে চেয়েছিলেন। এমন তথ্য প্রকাশ করেছেন উইকিলিকস।

আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা চান না বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ হোক। মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মিরয়ার্টিকে এ কথা জানিয়েছিলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। ২০০৯ সালের জুন মাসের ১৮ তারিখে মরিয়ার্টির সঙ্গে এক বৈঠকে এসব কথা জানান আশরাফ।

জুনের ২২ তারিখে এ সংক্রান্ত তারবার্তা ওয়াশিংটনে পাঠান মরিয়ার্টি। আর এ তারবার্তাটি ফাঁস করেছে সাড়া জাগানো উইকিলিকস। ঐ বৈঠকে সৈয়দ আশরাফ আরও জানান, আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা চান না বিচারবহির্ভূ হত্যাকাণ্ড বন্ধ হোক। কিন্তু সম্প্রতি র‍্যাব কর্তৃক দুই ছাত্র (পলিটেকনিকের জিন্নাহ ও মোহসিন শেখ) নিহত হওয়ার পর এ ঘটনা বদলে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। শিগগিরই সরকার একটি মানবাধিকার কমিশন গঠিনের জন্য আইন প্রণয়ন করবে বলে জানান তিনি। আমাদের সময় পত্রিকায় খবরটি ছাপা হয়।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারেও বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধের প্রতিশ্র“তি থাকলেও ক্ষমতায় আসার পর সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বিভিন্ন সময় সাংবাদিকদের কাছে দাবি করে আসছেন বাংলাদেশে বিচার বহির্ভূতি হত্যাকান্ড বন্ধ হয়েছে।

র্যাব এর এসব কাজ নিয়ে তাই তাই স্বস্তিতে নেই সরকারও। ২০০৯ সালের ৩রা ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের বাংলাদেশ বিষয়ক ইউনিভার্সাল পেরিওডিক রিভিও  তে যোগ দিতে গিয়ে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মণি বলেন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড অবশ্যই বন্ধ করা হবে। তিনি আরো দাবি করেন যে, “বিচার বহির্ভূত হত্যার বিষয়ে আওয়ামী লীগ সরকার জিরো টলারেন্স প্রদর্শন করবে”। কিন্তু, এসব বন্ধে সরকারের পদক্ষেপের কথা তিনি সে বৈঠকে বলেননি।

২০১০ সালের পহেলা মার্চ জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কাউন্সিলের উচ্চ পর্যায়ের ১৩তম অধিবেশনেও একই শপথ পুনরাবৃত্তি করেন তিনি। দীপু মনি বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড চলতে পারে না। বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথাও এই সেশনে উচ্চারণ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। অথচ আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় যাবার পর প্রথম সাড়ে তিন বছরে র্যাব এর বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড থামেনি।

বিএনপি আমলে শুরু হওয়া এই বাহিনীর সমালোচনা এখন করছেনে বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াও। বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড নিয়ে জাতীয় সংসদেও বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। যদিও তার আমলে ‘তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী’ পিচ্চি হান্নান তথাকথিত ক্রসফায়ারে নিহত হবার পর তখনকার স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর র্যাব-১ কে ঢাকঢোল পিটিয়ে ৫০ লাখ টাকা উপঢৌকন দিয়েছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *